Saturday, 19 August 2023
Saturday, 12 August 2023
Sunday, 6 August 2023
Sunday, 21 May 2023
Saturday, 13 May 2023
Wednesday, 10 May 2023
Monday, 8 May 2023
Wednesday, 12 April 2023
ইতিকাফের সঠিক নিয়ম,নিয়ত ও ফজিলত | আল্লামা জ উ ম আব্দুল মুনইম মনজলালী
আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) তাঁর জীবনের প্রতিটি রমজানের শেষ দশকেই মসজিদে ইতিকাফ থেকেছন।অথচ বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাই আমরা এতোটাই দুনিয়াবি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে এই আমলটি থেকে সবাই পিছপা হয়ে গিয়েছি৷ তাই আমাদের প্রাণ প্রিয় নবি তথা আমাদের পেয়ারা নবি (সাঃ) কে ভালোবাসলে অবশ্যই আমামদের এই আমলটি আদায় করতে এগিয়ে আসা উচিত৷
Wednesday, 13 July 2022
Sunday, 16 January 2022
Thursday, 13 January 2022
Wednesday, 12 January 2022
Tuesday, 11 January 2022
Wednesday, 20 May 2020
Friday, 10 August 2018
নারীর পর্দা
এফ কে জুনেদ আহমদ
![]() |
এফ কে জুনেদ আহমদ |
পর্দা হল নারীর ভূষণ। পর্দা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। কুরআন মজীদের কয়েকটি সূরায় পর্দা-সংক্রান্ত বিধান দেওয়া হয়েছে।
পর্দার বিষয়ে আল্লাহ তাআলা সকল শ্রেণীর ঈমানদার নারী-পুরুষকে সম্বোধন করেছেন। আল্লাহ পাক নবী (সা.) কে আদেশ করেছেন তিনি যেন তাঁর স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে এবং মুমিনদের নারীদেরকে চাদর দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত রাখার আদেশ দেন।
কিছু আয়াতে উম্মুল মুমিনীনদেরকেও সম্বোধন করা হয়েছে, কোনো কোনো আয়াতে সাহাবায়ে কেরামকেও সম্বোধন করা হয়েছে। মোদ্দকথা, কুরআন মজিদ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মুসলিম নার নারীর জন্য পর্দার বিধান দান করেছে। এটি শরীয়তের একটি ফরয বিধান। এ বিধানের প্রতি সমর্পিত থাকা ঈমানের দাবি । ইসলামে নারীকে যত কিছু দিয়ে সম্মানিত করেছে তার মধ্যে অন্যতম হল পর্দা। পর্দা নারীর সম্মান এবং মর্যাদার প্রতীক।
নারীর শালিনতা এবং ভদ্র হওয়ার প্রতীক হল তার পরিধানে বোরকা থাকা। বোরকা মানে নারীকে কালো কাপড়ে ঢেকে ফেলা বা বন্দি করা নয়, বরং নারীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, তার ইজ্জত আব্রুকে সম্মানজনকভাবে সংরক্ষণ করা। পোশাক-পরি”ছদ মানব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, পোশাক যেমন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঢেকে রাখা ও সৌন্দর্যের উপকরণ, তেমনি শরীয়তের দিক-নির্দেশনা মেনে তা ব্যবহার আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
অর্থাৎ, হে নবী! আপনি আপনার পতœীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়।
এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। ( সুরা আহযাব ৫৯)
পর্দা শব্দটি ফার্সি।অধিক ব্যবহারের জন্য বর্তমানে এটি বাংলা শব্দের অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। এর আরবি শব্দ হল হিজাব। হিজাব শব্দটি বিপুল পরিমাণে ব্যবহৃত হচ্ছে। হিজাব অর্থ ঢেকে রাখা, আবৃত করা, আড়ালে রাখা। হিজাব শব্দটি কোরআনে সাত বার এসেছে, এর মধ্যে ৫ বার হিজাব এবং ২ বার হিজাবান দেখুন সুরা: আয়াত( হিজাব অর্থ) ৭:৪৬ (প্রাচীর ), ১৭:৪৫(প্রচ্ছন্ন পর্দা ), ১৯:১৭ (নিজেকে আড়াল করার জন্যে সে পর্দা করলো), ৩৩:৫৩ (পর্দার আড়াল থেকে চাইবে), ৩৮:৩২ (সূর্য ডুবে গেছে সূর্য আড়ালে গেছে), ৪১:৫ (আমাদের ও আপনার মাঝখানে আছে অন্তরাল), ৪২:৫১ (কিন্তু ওহীর মাধ্যমে অথবা পর্দার অন্তরাল থেকে)
পারিভাষিক অর্থে হিজাব হলো বিবাহ বৈধ এমন পুরুষদের দৃষ্টি থেকে আড়াল রাখা। পুরুষদের ক্ষেত্রে নাভী থেকে হাটু পর্যন্ত । নারীদের ক্ষেত্রে মুখম-ল, হাতের কব্জি এবং পায়ের কব্জি বাদে বাকি পুরো শরীর রাখাটাই হল পর্দা। মুহরিম নয় এমন পুরুষদের দৃষ্টি থেকে মুসলিম মহিলাদের আড়াল করার নামই পর্দা। এর চেয়েও বড় মিথ্যা আর কি হতে পারে। যারা বলে পর্দা বিদ্যা অর্জনের অন্তরায়, তাদের উদ্দেশ্যে বলি পর্দায় থেকে মা আয়শা (রা.) পান্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। নবী করিম (সা.) আয়শা (রা.) কে কেন্দ্র করে বলেছিলেন (ইসলামের তিন ভাগের এক ভাগ) আয়শা (রা.) এর কাছে আমানত আছে। এছাড়া আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামার উপদেষ্টা ড. ডালিয়া মুজাহিদ শালীন পোশাক পরিধান করার কারণে সাংবাদিকগণ তাকে গভীর বিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করেছিলো, আপনার বেশ-ভূষা ও পোশাক- পরি”ছদের মধ্যে আপনার উচ্চ শিক্ষা ও জ্ঞানের গভীরতা প্রকাশ পা”েছনা। তাদের ধারণা ছিলো, হিজাব অনগ্রসরতা, মূর্খতা ও সেকেলে ধ্যান-ধারণার প্রতীক। উত্তরে তিনি বললেন, আদিম যুগে মানুষ ছিল প্রায় নগ্ন। শিক্ষা ও জ্ঞান চর্চার উন্নতির সাথে সাথে পোশাক পরিধান করে সভ্যতার উচ্চ শিখরে আরোহণ করতে থাকে। আমি যে পোশাক পরিধান করেছি, তা শিক্ষা ও চিন্তাশীলতায় উন্নতি ও সভ্যতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। নগ্নতা ও উলঙ্গতাই যদি উন্নত শিক্ষা ও সভ্যতার চিহ্ন হতো, তাহলে বনের পশুরাই হতো পৃথিবীর সবচেয়ে সুসভ্য ও সুশিক্ষিত।
সৌদি আরব, প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর অসংখ্য দেশের নারীরা পর্দা করে হিজাব পরিধান করে। হাত মোজা, পা মোজা পরিধান করে বিদ্যালয়গুলোতে যাচ্ছে এবং বড় মাপের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক হচ্ছেন। জাতি গঠনের জন্য তো এমন সুশিক্ষিত মা আমাদের একান্ত প্রয়োজন। নেপোলিয়ান বোনাপাঠ বলেছেন- Give me an educated mother, I will give you a educated nation.
“তুমি আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব”
আদর্শ মা বলতে বেপর্দা নষ্ট মেয়েটিকে বোঝানো হয় না। একজন নারীকে বুঝানো হয়েছে, যে সার্বিকভাবে তার স্বতীত্বকে রক্ষা করে ধর্মীয় বিধি-বিধান মান্য করে জীবনকে আল্লাহর পথে উৎসর্গিত করবে।
পরিশেষে, আমাদের মনে রাখতে হবে, নারীদের যেমন পর্দা করা ফরয তেমনি তাদেরকে পর্দামত চলতে সুযোগ দেয়া পুরুষদের উপর ফরয। আর যে সব পুরুষরা নারীদের অভিভাবক তাদের জন্য ফরয হল নারীদের পর্দায় রাখা।
Sunday, 1 July 2018
জামাতের সাথে নামাজের গুরুত্ব
এফ কে জুনেদ আহমদ
![]() |
| এফ. কে. জুনেদ আহমদ |
আমিন।
শিক্ষার্থী: হযরত শাহজালাল ডি. ওয়াই. কামিল মাদরাসা, সোবহানীঘাট, সিলেট।
Monday, 30 October 2017
আজ ও খুুঁজি তাকে
এফ. কে. জুনেদ আহমদ
![]() |
| এফ কে জুনেদ আহমদ |
হযরত শাহজালাল শাহপরান ও ফুলতলী (রহ.) সহ ৩৬০ আউলিয়ার স্মৃতি বিজড়িত আধ্যাত্মিক রাজধানী, খ্যাতপূর্ণ ভূমি সিলেটের জীবন্ত কিংবদন্তী কুরআন তথা দ্বীনের খাদেমদের মধ্যে অন্যতম হলেন অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান কামালী। ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কুরআনের সুমহান বাণী প্রচার করে তিনি বেঁচে আছেন কোটি জনতার মাঝে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে। ক্ষণজন্মা এই মনীষী ছিলেন সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলাধীন আঙ্গারজুর গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে বেড়ে উঠা এই মনীষী তার কর্মজীবনের ন্যায় নিষ্ঠা ও সততার সাথে দেশ ও জাতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে গেছেন। আনজুুমানে আল ইসলাহ ও লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটি গোয়াইনঘাট উপজেলার সভাপতি এবং আঙ্গারজুর আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবে গুরু দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও আঙ্গারজুর পূর্ব পাড়া জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লীসহ অন্যান্য দায়িত্বরত অবস্থায় মাওলায়ে হাকীকীর ডাকে সাড়া দেন। হুজুর শুধু ছাত্রদের মাঝে কুরআনের বাণী ছড়িয়ে দিতে কাজ করেননি বরং কাজ করেছেন কুরআনিক সমাজ বিনির্মাণে। আমার শ্রদ্ধেয় ওয়ালিদ মুহতরামের নির্দেশে ২০১১ সালে যখন আমি দাখিল ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হই তখন হুজুরের সাথে প্রথম দেখা। মাদরাসায় ভর্তি করার পর হুজুরের নির্দেশে আমার থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন তার ফুফাতো ভাই ও বর্তমান মেম্বার জনাব নিজাম উদ্দিন সাহেবের বাড়িতে। হুজুরের বাড়ি মসজিদ সংলগ্ন হওয়ার সুবাদে প্রায়ই হুজুরের সঙ্গে দেখা হত। দেখা হলে জানতে চাইতেন থাকা খাওয়া ও পড়া- লেখার কোন সমস্যা হচ্ছে কি না? বা ব্যক্তিগত কোন অসুবিধা আছে কি না। তখন আমার বয়স কম থাকায় আমি বেশি বুঝতাম না, কিন্তু ধীরে ধীরে যখন আমার বুঝার বয়স হল তখন আমি মনে মনে ভাবতাম হুজুর শুধু তো মাদরাসার অধ্যক্ষ নন বরং তিনি আমার একজন সুযোগ্য অভিভাবকও ছিলেন। আমাকে তাঁর ছেলেদের মত স্নেহ করতেন। আমার সহপাঠীদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে জানতে পারলাম যে, সকল ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে তিনি সমান আচরণ করতেন।
হুজুরের শিক্ষা বা কর্মজীবন সম্পর্কে আমার তেমন একটা জানা নেই। পাড়া প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জেনেছি যে, হুজুর ছিলেন সদর থানার অন্তর্গত সিরাজুল ইসলাম আলিম মাদরাসার শিক্ষক, আঙ্গারজুর দাখিল মাদরাসার সুপার পদ শুন্য হওয়ার সুবাদে এলাকাবাসীর অনুরোধে সুপার পদে তিনি যোগদান করেন।
এ মহান ব্যক্তিত্বের প্রচেষ্টায় মাদরাসার দাখিল থেকে আলিম পর্যায়ে উন্নীত হয়। তার এই প্রচেষ্টা স্মরণীয় হয়ে থাকবে মানব হৃদয়ে।
অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি তার সহকর্মীদের নিকট তিনি পরম শ্রদ্ধেয় ছিলেন। অনেক বৃদ্ধ হুজুরগণ তাকে হুজুর বলে সম্বোধন করতেন। মাদরাসার শিক্ষকবৃন্দ হুজুরের বিয়োগ ব্যথায় আজও ব্যথিত। হুজুরের মৃত্যু দিনে দেখলাম হাজার হাজার মানুষ, ছাত্র-শিক্ষকের কান্নার শুরগোল, যা দ্বারা বুঝা যায় যে, আমরা এক আপনজন কে হারিয়ে ফেলেছি। জনা যায় আগত মুসাল্লিদের অবস্থায় বুঝা গেল অধ্যক্ষ হুজুরের সুন্দর আচরণ থেকে আজ শুধু মাদরাসা নয় গোটা উত্তর সিলেটবাসী সুন্দর আচরণ থেকে বঞ্চিত।
অবুঝ মনে বলতে হয়,
অবুঝ মনে বুঝ মানে না হুজুর তো আর নাইরে নাই।
মোদের ছেড়ে চলে গেছেন উত্তর সিলেটের হাতেম তায়ী।
কুরআনের এ জীবন্ত খাদেম ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর সোমবার বেলা ১.৪৫ মিনিটের সময় সিলেটবাসীকে কাদিয়ে পরপারে পাড়ি জমান।
পরিশেষে অশান্ত মনকে শান্তনা দিচ্ছি যে, সবাইকে মুত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। সৃষ্টিকর্তার বিধান অনুযায়ী সবাইকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। একমাত্র স্বীয় মহিমা ও উজ্জল কর্মই মানুষ মানুষের মাঝে জীবন্ত রাখে। কুরাআনের খাদিম ও কুরআনের আলোকে সমাজ বিনির্মাণে নিবেদিত এই প্রাণ প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন আমাদের শিরতাজ, সর্ব শ্রদ্ধেয় অধ্যক্ষ মাওলানা মুজিবুর রহমান কামালী মহান প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। আল্লাহ তায়ালার দরবারে তার মাগফিরাত কামনা করছি এবং আমাদের মুহতারাম হুজুর কে যেন জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন। আমীন।
লেখক : সাবেক ছাত্র-আঙ্গারজুর আলিম মাদরাসা
বর্তমান শিক্ষার্থীঃ হযরত শহাজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসা,সোবহানীঘাট, সিলেট।
Monday, 23 October 2017
Sunday, 8 October 2017
Subscribe to:
Posts (Atom)

